ধূমপান ছাড়ার ১৪ টি সহজ ও কার্যকরী উপায় - আমরা লিখি

ধূমপান ত্যাগ করার সহজ উপায়

যারা ধূমপান করেন তারা প্রায় প্রত্যেকেই জানেন যে , ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।কিন্তু এটা জেনেও তারা দিনের পর দিন এই নেশা চালিয়ে যান।এ যেন ঠিক নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারা।বর্তমানে অনেকেই এই নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।বিশেষ করে আমাদের তরুণ প্রজন্ম এই সর্বনাশা নেশায় বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন সারাদিনের অতিরিক্ত কাজের চাপ, টেনশন, সংসারে অশান্তি, ঝামেলা, অভাব অনটন , অফিস সংসারে ট্রেস - এসব থেকেই সাময়িক রিলাক্স পেতেই অনেকেই ধূমপান করে থাকেন।কিন্তু এই সাময়িক রিলাক্স পেতে গিয়ে সে তার নিজের শরীরের কতটা মারাত্মক ক্ষতি করে ফেলছে তা তার নিজের ধারণার বাইরে।এই ধূমপানের কারণে আমাদের দেশে প্রায় অনেক মানুষ বিভিন্ন মারনরোগের শিকার হচ্ছেন এবং অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন।ধূমপান শুধুমাত্র ধূমপানকারীর স্বাস্থ্যের পক্ষেই ক্ষতিকারক নয় বরং ধূমপানের সময় যারা যারা ওই ব্যক্তির কাছে আসেন তাদের জন্যও এটি ক্ষতিকারক প্রমাণিত হয়েছে।বিশেষ করে বাড়ির মধ্যে ধূমপানের সময় বাড়িতে থাকা শিশু ও বয়স্করা এর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হন।তাই শুধু নিজের জন্য নয় বাড়ির অন্যান্যদের ভালো চিন্তা করেও আপনার এমহুড়তেই ধূমপান বর্জন করা উচিত।তামাকজাত নেশা হল যক্ষা বা ফুসফুস ক্যান্সারের অন্যতম কারণ ও ধারক ও বাহক।তাই পরিবারের ভালোর জন্য, পরিবেশের ভালোর জন্য ও সমাজের ভালোর জন্য আপনার উচিত এই সর্বনাশা ধূমপানের নেশা পরিত্যাগ করা।আজকের এই বিশেষ নিবন্ধে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে খুব সহজেই এবং কার্যকরী উপায়ে এই ধূমপানের নেশা থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারবেন।

তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে আপনিও ধূমপান ছাড়তে পারবেন - 

১. ধূমপান ছাড়বো ছাড়বো নয়, আজ থেকেই এখনই ধূমপান ছাড়ার প্রতিজ্ঞা করুন।
২. এড়িয়ে চলুন সেই সমস্ত কাজ যেগুলি আপনাকে ধূমপানের কথা মনে করিয়ে দেয়।
৩. একদিন ধূমপান না করে দেখুন।পার্থক্য টা অনুভব করুন।জানি প্রথমে একটু অস্বস্তি হবে।কিন্তু ধীরে ধীরে অভ্যেস এ পরিণত হয়ে যাবে।
৪. ধূমপানের ক্ষতিকারক দিকগুলো সমন্ধে জেনে নিন।তাহলে যখনই ধূমপানের ইচ্ছা হবে তখন ওই কথাগুলো মনে করলেই ধূমপানের ইচ্ছা চলে যাবে।
৫. ধূমপানের নেশা কাটানোর জন্য পকেটে চকলেট বা মৌরী জুয়ানের কৌটো রাখুন।যখনই ধূমপান করতে ইচ্ছা করবে তখন ঐগুলো মুখে দেবেন।
৬. অনেকেই কাজের চাপ, টেনশন ইত্যাদি কমানোর জন্য ও এসবের থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে ধূমপান করে থাকেন।তারা মন ভালো রাখার জন্য, দুশ্চিন্তা এড়ানোর জন্য ভালো গান শুনতে পারেন, গল্পের বই পড়তে পারেন।বাইরে ঘুরতে যান, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিন দেখুন মন হালকা হয়ে যাবে।এবং সহজেই ধূমপান থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারবেন।
৭. আপনার আশেপাশে যারা ধূমপান ছেড়ে দিয়েছে তাদের অনুসরণ করুন, পরামর্শ নিন।
8. আপনার যে সমস্ত বন্ধু আপনাকে ধূমপান করতে বাধ্য করে, সেইসমস্ত বন্ধুদের সুকৌশলে সঙ্গ ত্যাগ করুন।
৯. স্বাস্থ্য সচেতনতার বই পড়তে পারেন।
১০. জলপান করুন।ধূমপান ছাড়ার পর প্রচুর পরিমানে জল পান করুন কয়েকদিন।এতে নিকোটিন আপনার শরীর থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাবে।
১১. ধূমপান ছাড়তে হরিতকির ব্যবহার করতে পারেন।আয়ুর্বেদ মতে হরিতকি ধূমপান ছাড়তে সাহায্য করে।হরিতকি তে ট্যানিন, ফ্রুকটোজ,অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে।এটি অন্ত্র কে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।ধূমপান করতে ইচ্ছা করলেই মুখে হরিতকি নিয়ে নেবেন দেখবেন হাতেনাতে ফলাফল পাবেন।
১২. ধূমপানের আসক্তি ছাড়তে যষ্টিমধু খুব ফলদায়ী।
১৩. আদার টুকরো ধূমপান ছাড়াতে সাহায্য করে।
১৪. ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে কাউন্সেলিং এর সাহায্য নিতে পারেন।
সবচেয়ে বড় কথা হলো ধূমপান এর নেশা ত্যাগ করা কোন অসাধ্য সাধন নয়।এর জন্য কোন প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই।আপনার মন থেকে ইচ্ছা থাকলে একটি সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য